Header Ads

জ্বীন বশ করার বিধান

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জ্বিন হাজির করা, জ্বিন বশ করা কোনো ভালো কাজ নয়। হাশরের মাঠে যখন আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞাসা করবেন,

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الْإِنسِ

‘হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা তো মানুষদের বেশি পথভ্রষ্ট করে ফেলেছো’। তখন তারা বলবে, ‘হে আল্লাহ, দুনিয়াতে তো আমরা একে অপরের উপকার করেছি।’ তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন যে, ‘না। এ উপকার গ্রহণযোগ্য নয়, তোমাদের স্থায়ী স্থান হচ্ছে জাহান্নাম’।(সুরা আনআম:128)

ছবি: যুগান্তর

জ্বিনের সহযোগিতা গ্রহন:

জিনদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার বিধান হল যে যদি তাদের কাছ থেকে জায়েজ বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া নিঃসন্দেহে জায়েজ এবং সঠিক। তবে, যদি তাদের কাছ থেকে অবৈধ এবং অবৈধ বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হয়, তাহলে তা করা নিঃসন্দেহে বেআইনি, যা এড়ানো জরুরি।

আরেকটা বিষয় স্পষ্ট জেনে রাখা উচিত যে, জিনরা যা বলে তার সবকিছুই বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং তারা প্রায়শই অনুমান এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অতএব, তাদের যা কিছু বলে তার উপর বিশ্বাস করা এবং বিশ্বাস করা ঠিক নয় এবং এটি এড়িয়ে চলা আবশ্যক।  তাছাড়া বর্তামানে যারা জিন বশ করে বা জিনের সহায়তায় বিভিন্ন কর্ম সাধন করে থাকে তারে বেশির ভাগই কুরআন-সুন্নাহ বিবর্জিত বিভিন্ন কালাম, কোথাও কুফরী কালাম দিয়ে এসব করে থাকে । কাজেই এইসব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। 


জিন অধীন করা কিরূপ?

সূরাঃ সাবা এর ১৪ নং আয়াতে উল্লেখ আছে-

আয়াতঃ فَلَمَّا قَضَیۡنَا عَلَیۡہِ الۡمَوۡتَ مَا دَلَّہُمۡ عَلٰی مَوۡتِہٖۤ اِلَّا دَآبَّۃُ الۡاَرۡضِ تَاۡکُلُ مِنۡسَاَتَہٗ ۚ  فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الۡجِنُّ اَنۡ لَّوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ الۡغَیۡبَ مَا لَبِثُوۡا فِی الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ ؕ 

অর্থঃ অতঃপর আমি যখন সুলায়মানের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিলাম তখন জিনদেরকে তার মৃত্যু বিষয়ে জানাল কেবল মাটির পোকা, যারা তার লাঠি খাচ্ছিল। #%১০%# সুতরাং যখন সে পড়ে গেল তখন জিনরা বুঝতে পারল, তারা যদি গায়েবের জ্ঞান রাখত তবে এই লাঞ্ছনাকর কষ্টে পড়ে থাকত না।

আয়াতের লিংকঃ https://muslimbangla.com/sura/34/tafsir/14

অ্যাপসের লিংকঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.tos.namajtime

এ স্থলে উল্লিখিত জিন অধীন করার বিষয়টি আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে কার্যকর হয়েছিল বিধায় এতে কোন প্রশ্নই দেখা দেয় না। কতক সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, জিন তাঁদের বশীভূত ও অধীন ছিল। এ বশীকরণও আল্লাহ্ তা’আলার অনুমতিক্রমে ছিল, যা কারামতরূপে তাঁদেরকে দান করা হয়েছিল। এতে আমল ও ওযীফার কোন প্রভাব ছিল না। 

আল্লামা শরবিনী ’সিরাজুল মুনীর’ তফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের অধীনে হযরত আবু হোরায়রা, উবাই ইবনে কা’ব, মুয়ায ইবনে জাবাল, উমর ইবনে খাত্তাব, আবূ আইউব আনসারী, যায়েদ ইবনে সাবেত (রা) প্রমুখ সাহাবীর একাধিক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, জিনরা তাঁদের আনুগত্য ও কাজকর্ম করত। কিন্তু এটা নিছক আল্লাহ্ তা’আলার অনুগ্রহ ও কৃপা ছিল। আল্লাহ্ তা’আলা সোলায়মান (আ)-এর অনুরূপ কতক জিনকে তাঁদেরও সেবাদাসে পরিণত করে দেন। 


কিন্তু আমলের মাধ্যমে জিন বশ করার যে নিয়ম আলিমগণের মধ্যে খ্যাত আছে, সেটা শরীয়তে জায়েয কি-না, তা চিন্তার বিষয় বটে। 

অষ্টম শতাব্দীর আলিম কাজী বদরুদ্দীন শিবলী হানাফী জিনদের বিধান সম্পর্কে “আ-কামুল মারজান ফী আহ কামিল জান” নামক একটি স্বতন্ত্র পুস্তক রচনা করেছেন। এতে বর্ণিত আছে যে, জিনদের কাছ থেকে সেবা গ্রহণের কাজ সর্বপ্রথম হযরত সোলায়মান (আ) আল্লাহর আদেশক্রমে মু’জিযারূপে করেছেন। পারস্যবাসীরা “জমশেদ সম্পর্কে বলে থাকে যে, তিনি জিনদের সেবা গ্রহণ করেছিলেন। এমনিভাবে সোলায়মান (আ)-এর সাথে সম্পর্কশীল ’আসিফ ইবনে বরখিয়া প্রমুখ সম্পর্কেও জিনদের সেবা গ্রহণের ঘটনাবলী খ্যাত আছে। 

মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে সর্বাধিক খ্যাতি আবু নসর আহমদ ইবনে বেলাল এবং হেলাল ইবনে ওসিফের রয়েছে। তাঁদের থেকে জিনদের সেবা গ্রহণের অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলী বর্ণিত আছে। হেলাল ইবনে ওসিফ একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সোলায়মান (আ)-এর সামনে পেশকৃত জিনদের বাক্যাবলী এবং তাঁর সাথে জিনদের চুক্তি ও অঙ্গীকারনামা উল্লেখ করেছেন।

কাজী বদরুদ্দীন উক্ত গ্রন্থে আরও লেখেন, যারা জিন বশ করার আমল করে, তারা সাধারণত শয়তান রচিত কুফরী কলেমা ও যাদুকে কাজে লাগায়। কাফির জিন ও শয়তান এগুলো খুব পছন্দ করে। জিনদের অধীন ও অনুগত হওয়ার গূঢ়তত্ত্ব এত টুকুই যে, তারা আলিমদের কুফরী ও শিরকী আমলে সন্তুষ্ট হয়ে ঘুষস্বরূপ তাদের কিছু কাজও করে দেয়। এ কারণেই এসব আমলে আলিমরা কোরআনের আয়াত নাপাকী, রক্ত ইত্যাদি দিয়ে লিখে থাকে। এতে কাফির জিন শয়তান খুশি হয়ে তাদের কাজ করে দেয়। তবে খলীফা মু’তাযিদ বিল্লাহর আমলে ইবনুল ইমাম নামক ব্যক্তি সম্পর্কে কাজী বদরুদ্দীন লেখেন যে, তিনি আল্লাহ্ তা’আলার নামসমূহের মাধ্যমে জিন বশ করেছিলেন। এতে কোন শরীয়ত বিরোধী কথা ছিল না। সার কথা এই যে, যদি কোন ইচ্ছা ও আমল ব্যতিরেকে শুধু আল্লাহর মেহেরবাণীতে জিন কারো অধীন হয়ে যায়, যেমন সোলায়মান (আ) ও কতক সাহাবী সম্পর্কে এরূপ প্রমাণিত আছে, তবে এটা মু’যিজা ও কারামতের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে আমলের মাধ্যমে জিন বশ করা হলে তাতে যদি কুফরী বাক্য অথবা কুফরী কর্ম থাকে, তবে এরূপ বশীকরণ কুফর হবে। কেবল গোনাহ্, সম্বলিত আমল হলে কবীরা গোনাহ্ হবে। যেসব আমলে এমন শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ জানা নেই সেগুলোকেও ফিকাহবিদগণ নাজায়েয বলেছেন। কারণ, এগুলোতে কুফর, শিরক অথবা গোনাহ্ থাকা বিচিত্র নয়। কাজী বদরুদ্দীন আ-কামুল মারজানে অবোধগম্য বাক্যাবলীর ব্যবহারকেও নাজায়েয লেখেছেন। বশীকরণের আমল যদি আল্লাহর নামসমূহ অথবা কোরআনী আয়াতের মাধ্যমে হয় এবং তাতে অপবিত্র বস্তু ব্যবহারের মত গোনাহ্ না থাকে, তবে এই শর্তে জায়েয যে, এর উদ্দেশ্য জিনদের উৎপীড়ন থেকে নিজেকে ও অন্য মুসলমানদেরকে রক্ষা করা হতে হবে। অর্থাৎ ক্ষতি দূর করা উদ্দেশ্য হওয়া চাই—উপকার লাভ করা উদ্দেশ্য না হওয়া চাই। ধনোপার্জনের উপায় হিসাবে এরূপ আমল করা নাজায়েয। কারণ, এতে استرقاق حر অর্থাৎ স্বাধীনকে গোলামে পরিণত করা এবং শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতীত তাকে বেগার খাটানো জরুরী হয়ে পড়ে, যা হারাম। وَمَنْ يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ – অর্থাৎ কোন জিন যদি সোলায়মান (আ)-এর আনুগত্য না করে, তবে তাকে আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে। অধিকাংশ তফসীরবিদের মতে এখানে পরকালের জাহান্নামের আযাব বোঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়াতেও আল্লাহ্ তা’আলা তাদের উপর একজন ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছিলেন। সে অবাধ্য জিনকে আগুনের চাবুক মেরে মেরে কাজ করতে বাধ্য করত। (কুরতুবী) এখানে প্রশ্ন হয় যে, জিন জাতি আগুন দ্বারা সৃজিত। কাজেই আগুন তাদের মধ্যে কি ক্রিয়া করবে? এর জওয়াব এই যে, আগুন দ্বারা জিন সৃজিত হওয়ার অর্থ তাই, যা মাটির দ্বারা মানব সৃজিত হওয়ার অর্থ। অর্থাৎ মানব অস্তিত্বের প্রধান উপাদান মৃত্তিকা। কিন্তু তাকে মৃত্তিকা ও পাথর দ্বারা আঘাত করা হলে সে কষ্ট পায়। এমনিভাবে জিন জাতির প্রধান উপাদান অগ্নি। কিন্তু নির্ভেজাল ও তেজষ্ক্রিয় অগ্নিতে তারাও জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَاسِيَاتٍ --এ আয়াতে সে সব কাজের কিছু বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যা সোলায়মান (আ) জিনদের দ্বারা করাতেন।



No comments

Powered by Blogger.