এসথেটিক ও লেজার চিকিৎসার শরঈ বিধান
প্রশ্ন:
আমি একজন নার্স, আমি এসথেটিক & লেজার সেন্টারে কাজ করি। এইসব জায়গায় মহিলাদের সৌন্দর্যের কাজ করা হয়। মেশিনের সাহায্যে এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে। আমি শুধু হেল্প করি ডাক্তারের সাথে। এতে কি আমার গুনাহ হবে?
উত্তর:
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
কোনো বিষয় জায়েজ হওয়া না হওয়া নির্ভর করে তার বাস্তব কাজ থেকে। আমরা এসথেটিক & লেজার সেন্টারে কাজ সম্পর্কে যদ্দুর জানি সেখানে নিম্নোক্ত কাজগুলো হয়ে থাকে।
অবাঞ্ছিত লোম দূর করা: মুখ বা শরীরের যেকোনো অংশের অবাঞ্চিত লোম স্থায়ীভাবে দূর করা হয়।
দাগ ও পিগমেন্টেশন: ব্রণের গভীর গর্ত, মেস্তা, রোদে পোড়া দাগ ও জন্মদাগ দূর করা।
অ্যান্টি-এজিং: মুখের বলিরেখা দূর করে ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল করা।
ট্যাটু রিমুভাল: ত্বকের স্থায়ী ট্যাটু বা উল্কি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। (উল্লেখ্য, ত্বকে/শরীরে ট্যাটু করানো হারাম। তবে পূর্বের কোনো ট্যাটু মুছে ফেলার জন্য লেজার ব্যবহার করা জায়েজ।)
এসথেটিক & লেজার চিকিৎসার বিধান:
উপরিউক্ত কাজগুলোর ক্ষেত্রে বিধান হলো, যদি এই কাজগুলো শারীরিক ত্রুটি দূর করা, রোগ নিরাময় বা স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়। এবং আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক সৃষ্টিতে বিকৃতি বা পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে না হয় তাহলে জায়েজ।
পক্ষান্তরে যদি এগুলোর মাধ্যমে অহংকার, লোভ বা ফ্যাশনের বশে নিজের মূল অবয়ব পরিবর্তন করা হয় (যেমন—অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাক বা ঠোঁটের আকৃতি চিরতরে বদলে ফেলা) তাহলে কুরআন সুন্নাহের আলোকে এই কাজগুলো হারাম।
এমনিভাবে ইসলামে ভ্রু উপড়ে ফেলা বা প্লাক করা নিষিদ্ধ। তাই লেজার দিয়ে ভ্রু কেটে চিকন বা স্থায়ী নকশা করা জায়েজ নয়।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ৩টি জরুরি শর্ত
১. সতর রক্ষা করা: লেজার করার সময় অবশ্যই নিজের 'সতর' বা গোপন অঙ্গের পর্দা বজায় রাখতে হবে।
২. সমলিঙ্গের চিকিৎসক: নারীদের চিকিৎসা অবশ্যই কোনো নারী বিশেষজ্ঞ দ্বারা এবং পুরুষদের চিকিৎসা পুরুষ বিশেষজ্ঞ দ্বারা সম্পন্ন হতে হবে। একান্ত নিরুপায় বা শরঈ ওজর ছাড়া বিপরীত লিঙ্গের চিকিৎসকের কাছে সতর উন্মুক্ত করা যাবে না।
৩. হালাল উপাদান ও নিরাপত্তা: চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনজেকশন বা মেডিসিনে যেন কোনো হারাম উপাদান (যেমন- শুকরের চর্বি বা অ্যালকোহল) না থাকে এবং চিকিৎসাটি যেন শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ না হয়।
আপনার কাজের বিধান:
প্রিয় প্রশ্নকারী বোন!
ওপরিউক্ত শর্তে প্রতি লক্ষ রেখে যদি আপনার প্রতিষ্ঠান কাজ করে এবং আপনি তাদের কাজে সহযোগিতা করে তাহলে তা জায়েজ হবে। কিন্তু যদি ওপরের শর্ত লঙ্ঘিত হয় তাহলে সেখানে কাজ করা আপনার জন্য জায়েজ হবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
تَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
“তোমরা কল্যাণ এবং তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহাযোগিতা করো, পাপ এবং সীমালঙ্ঘনের কাজে সাহায্য করো না। (সুরা মায়িদা)
ففي الفتاوی الهندیة (كتاب الحظروالاباحة،244/1،ط ج:رشیدیة) : "والقص والاطلاء بالنورۃ والقلع بالاسنان والسقوط بالمس ونحو ذٰلک کالحلق."
وفي رد المحتار(كتاب الحظر والإباحة، فصل في النظر والمس،373/6، ط:سعید): "(والنامصة إلخ ) ذكره في الاختيار أيضاً، وفي المغرب: النمص نتف الشعر ومنه المنماص المنقاش اهـ ولعله محمول على ما إذا فعلته لتتزين للأجانب، وإلا فلو كان في وجهها شعر ينفر زوجها عنها بسببه ففي تحريم إزالته بعد؛ لأن الزينة للنساء مطلوبة للتحسين، إلا أن يحمل على ما لا ضرورة إليه؛ لما في نتفه بالمنماص من الإيذاء. وفي تبيين المحارم: إزالة الشعر من الوجه حرام إلا إذا نبت للمرأة لحية أو شوارب فلا تحرم إزالته بل تستحب."
উত্তর প্রদানে
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমী
উস্তাজুল হাদিস ওয়াল ইফতা
জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা
No comments