ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থ
ভূমিকা:
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মরো না। (সূরা আলে ইমরান ১০২ আয়াত)
یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اتَّقُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ وَّخَلَقَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَبَثَّ مِنۡہُمَا رِجَالًا کَثِیۡرًا وَّنِسَآءً ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡ تَسَآءَلُوۡنَ بِہٖ وَالۡاَرۡحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلَیۡکُمۡ رَقِیۡبًا .
“হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যিনি তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন এবং আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং অজ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ দৃষ্টি রাখেন। (সুরা নিসা ১ আয়াত)।١
আর আল্লাহ জাল্লা শানুহ তাঁর প্রিয় নবীর জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ ও তাঁর সম্পদকে সম্পূর্ণ করেছেন। আর সমগ্র মানব ও দানব জাতির জন্য ইসলামকেই একমাত্র ধর্ম বলে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন। তিনি বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
অর্থাৎ, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ (নেয়ামত) সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের ধর্মরূপে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদাহ ৩ আয়াত) তিনি অন্যত্র বলেন,
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
অর্থাৎ, কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চাইলে তা কখনো তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে। (সূরা আলে ইমরান ৮৫ আয়াত)।
সুতরাং এখান হতে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীন অসম্পূর্ণ নয়, বরং সম্পূর্ণ। আর রসূল ঐ তা স্পষ্টভাবে প্রচারও করে গেছেন। যেমন হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর অবতীর্ণ প্রত্যাদেশের কিছুও গুপ্ত করেছেন, তবে সে নিশ্চয় আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ
অর্থাৎ, হে আল্লাহর রসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর। যদি তা না কর তবে তুমি তাঁর বার্তা প্রচার করলে না। (সূরা মায়েদাহ ৬৭ আয়াত)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে একথা দিবালোকের ন্যায় প্রতিয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালা দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করেছেন। নিম্নে আমরা ইসলামের পরিপূর্ণাতার কয়েকটি দিক উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।
ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব:
ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম এবং প্রধানতম কারণ হলো, এটি আল্লাহ তায়ালার তাওহীদে খালেস তথা একনিষ্ঠ একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এবং এই ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকার ঘোষণা। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন “নিশ্চয়ই আমি যিকির নাযিল করেছি এবং আমিই এর হেফজত করবো।” এখানে যিকির দ্বারা কুরআন এবং ইসলাম ধর্মও উদ্দেশ্য।
ব্যক্তি জীবনে ইসলামের পূর্ণতা:
সৃষ্টিগত ভাবে আল্লাহ তায়ালা মানুষের মাঝে এক ধরণের নেতৃত্ব বা পরিচালনাগত যোগ্য সৃষ্টি করে দিয়েছেন। জন্মগতভাবেই মানুষের মাঝে কিছুটা নেতৃত্ব যোগ্যতা রয়েছে। তবে সকলের ক্ষেত্রে সেটা সমান নয়। আর সেই যোগ্যতার বলেই সে ব্যক্তি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে। তবে নেতৃত্ব প্রয়োগের প্রথম ক্ষেত্র হলো ব্যক্তিসত্ত্বা। মানুষ মাত্রই নিজস্ব ব্যক্তিসত্ত্বার নেতা। নিজের ওপর নেতৃত্ব দিয়ে সে নিজেকে পরিচালনা করতে পারে। ইসলাম এব্যাপারে মানুষকে একেবারে উন্মুক্ত ছেড়ে দেয়নি। বরং আল্লাহ তয়ালা এক্ষেত্রে মানুষের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইরশাদ করেন,
وَمَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَالۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ
আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে। সুরা যারিয়াত: 56।
এখান থেকে প্রতিয়মান হয় যে, মানুষ তার ব্যক্তিসত্ত্বায় আল্লাহ তায়ালার বিধানের আনুগত্য করবে। সে নিজেকে লাগামহীন ছেড়ে দিবে না।
আল্লাহ তায়ালা আরোা ইরশাদ করেন,
الَّذِیۡنَ یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ قِیٰمًا وَّقُعُوۡدًا وَّعَلٰی جُنُوۡبِہِمۡ وَیَتَفَکَّرُوۡنَ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ ہٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। (আলে ইমরান: 151)
ব্যক্তি জীবনে মৌলিক ইবাদতগুলো মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হলো,
১। নামায
২। যাকাত
৩। রোযা
৪। হজ্ব
৫। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা।
৭। আল্লাহ তায়ালার হুকুম এবং রাসূলুল্লাহ সা. এর তরিকার মাঝে নিজেকে সঁপে দেওয়া।
পারিবারিক জীবনে ইসলামের পূর্ণতা:
সকল মানুষের জীবনের সূচনা হয় পরিবার থেকে। তাই ইসলাম পরিবার গঠনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবার থেকেই মানবঅঙ্কুর উদ্গম হয়ে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়। পারিবারিক শিক্ষাই মানুষের আদর্শের বুনিয়াদ। পারিবারিক সুখ শান্তি মানুষের জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম। এই মর্মে ইরাশদ হচ্ছে,
وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا لِّتَسۡکُنُوۡۤا اِلَیۡہَا وَجَعَلَ بَیۡنَکُمۡ مَّوَدَّۃً وَّرَحۡمَۃً ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ
আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
হাদিস শরীফে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন-
كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ، أَوْ يُنَصِّرَانِهِ، أَوْ يُمَجِّسَانِهِ، كَمَثَلِ البَهِيمَةِ تُنْتَجُ البَهِيمَةَ هَلْ تَرَى فِيهَا جَدْعَاءَ»
ইরশাদ করেনঃ প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) কানকাটা দেখেছ?
পরিবার যেন হয় ইসলামের সৌন্দর্য মণ্ডিত সেজন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের শিখিয়েছেন,
رَبَّنَا ہَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا
‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের জন্যে এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান কর যারা হবে আমাদের জন্যে নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদেরকে কর মুত্তাকীদের জন্যে অনুসরণযোগ্য। আল ফুরকান:৭৪
পিতা মাতার খেদমত:
পরিবারের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন বাবা মা। আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন,
وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡہَرۡہُمَا وَقُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا.
তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। 23 بني اسرائيل
সামাজিক জীবনে ইসলামের পূর্ণতা:
ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সামাজিক শিষ্টাচারের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা মানুষকে বলা হয় সমাজবদ্ধ জীব। কাজেই সামাজিক জীবনে যদি মানুষ ইসলামের বিধিবিধানের অনুসরণ না করে তাহলে সে প্রকৃত অর্থে আল্লাহ তায়ালা শ্রেষ্ঠ মাখলুক তথা মানুষ হতে পারবে না। তাই সামাজিক শিষ্টাচারেও ইসলামের অনুসরণ আবশ্যক। সেই শিষ্টাচারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
এক. সালাম বা সম্ভাষণ:
ইসলামী জীবন বিধানে ছোট-বড়, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সালামের জবাব দেওয়ার জন্যও অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَاِذَا حُیِّیۡتُمۡ بِتَحِیَّۃٍ فَحَیُّوۡا بِاَحۡسَنَ مِنۡہَاۤ اَوۡ رُدُّوۡہَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ حَسِیۡبًا
যখন কেউ তোমাদেরকে সালাম করে, তখন তোমরা (তাকে) তদপেক্ষাও উত্তমরূপে সালাম দিয়ো কিংবা (অন্ততপক্ষে) সেই শব্দেই তার জবাব দিয়ো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসাব রাখেন। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৬)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
أفشوا السلام وأطعموا الطعام (وصلوا الأرحام) وصلوا والناس نيام تدخلون الجنة بسلام.
তোমরা সালামের প্রচলন করো, খাদ্য খাওয়াও (ইবন মাজাহর বর্ণনায়: এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো) এবং যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন (রাতের গভীরে তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করো, তাহলে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। كنز العمال
দুই: পরোপকার:
১. সামাজিক জীবনে পরোপকার ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। যদি যতো বেশী পরোপকারী সমাজে তিনি ততো বেশি সমাদৃত। সহিহুল বুখারীতে ইমাম বুখারী রহ. হজরত খাদিজা রা. এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, ওহীর সূচনাতে যখন রাসূলুল্লাহ সা. নিজে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং জীবনের ব্যাপারে শংঙ্কিত হয়ে পড়েন তখন তিনি এই বলো নবী সা. কে শান্তনা দিয়েছেন
إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ.
আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।
مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুমিনের পার্থিব কোন বিপদ-আপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনে তার থেকে বিপদ দূরীভূত করবেন।
তিন. পারস্পরিক মিমাংসা:
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡکُمۡ وَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই ; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর আর আল্লাহ্কে ভয় কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।
রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের পূর্ণতা:
রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলাম নিয়ে অনেকেই প্রান্তিকতার শিকার। কেউ রাষ্ট্র তথা স্টেইট কায়েম করাকেই ইসলাম মনে করে। তাদের কাছে ইসলাম মানেই হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আবার কিছু মানুষ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইসলাম বহির্ভূত বিষয় বলে জ্ঞান করছে। উভয়ই ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ। বরং সঠিক এবং মধ্যপন্থার কথা হলো, ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় ইসলামী রাষ্ট্রও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বরং বলা ভালো রাষ্ট্রীয়ভাবেই ইসলাম কায়েম হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের ইনসাফ এবং ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে চলা সহজ হবে।
ইসলামে রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলনীতি:
এক. শুরা বা পরামর্শ ভিত্তিক।
দুই. জনগণের হাতে সম্পদের মালিকানা।
তিন. জনগণ এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাবদিহিতা।
চার. রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ইসলামের পূর্ণতা:
ইসলামের প্রচার-প্রসার এবং সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সা. বিশ্বময় কুননৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেও জোর দিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার একচ্ছত্র অধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইহলৌকিক এবং পরলৌকিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সা. নিন্মোক্ত পদ্ধতিগুলো গ্রহন করেছেন।
ছিঠিপত্র প্রেরণ।
রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস, পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ, মিশর সম্রাট মুকাওকিস।) ১ম এবং ৩য় জন ছিঠিকে সম্মান করেছে। কিন্তু ২য় জন চিঠিকে অপমান করেছে।
সন্ধিচুক্তি স্থাপন।
হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি। যাকে আল্লাহ তায়ালা ফাতহেমুবিন বা সুস্পষ্ট বিজয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। (لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ -দীন গ্রহণে জোর-জবরদস্তি নেই)
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। (মদিনার সনদ)
জিহাদ।
অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামের পূর্ণতা:
(চলমান)
-----------------------------
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমী
উস্তাজুল হাদিস ওয়াল ইফতা
জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা
No comments